চীনে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে

ইস্পাত উৎপাদন ও ব্যবহারে বিশ্বে শীর্ষ দেশ চীন। তবে নির্মাণ খাতের কার্যক্রম কমে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে ধাতবপণ্যটির চাহিদা নিম্নমুখী হয়েছে।

ইস্পাত উৎপাদন ও ব্যবহারে বিশ্বে শীর্ষ দেশ চীন। তবে নির্মাণ খাতের কার্যক্রম কমে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে ধাতবপণ্যটির চাহিদা নিম্নমুখী হয়েছে। এ কারণে উৎপাদনও কমিয়েছে বেইজিং। গতকাল এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বিজনেস রেকর্ডার।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান বুর‍্যোর দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এ সময় মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ৫০ লাখ টনে, যা গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন।

এর আগে ২০২০ সালে চীনের ইস্পাত উৎপাদন রেকর্ড ১০৬ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছিল। এর পর থেকে তা কমছে। এছাড়া বেইজিং ২০২১ সাল থেকে কার্বন নিঃসরণ সীমিত করতে উৎপাদনে শূন্য বার্ষিক প্রবৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছিল। এটিও উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

চায়না মেটালার্জিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত বছর চীনে ইস্পাতের ব্যবহার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেছে। যার উল্লেখযোগ্য কারণ নির্মাণ খাতের দীর্ঘস্থায়ী মন্দা। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সালেও উৎপাদন কমে যেতে পারে।

যদিও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সহায়তায় বিভিন্ন প্রণোদনা পদক্ষেপ নিয়েছে চীন সরকার। তবে নির্মাণ খাতের নেতিবাচক প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

ডিসেম্বরে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। মোট উৎপাদন পৌঁছেছে ৭ কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার টনে।

ব্রোকার কোম্পানি জিনরুই ফিউচারসের এক বিশ্লেষক ঝো গুয়িকিউ বলেন, ‘‌ইস্পাত ব্যবহার নিম্নমুখী হয়েছে। তবে সরকারের প্রণোদনা পদক্ষেপের কারণে এ গতি কমে আসতে পারে। ২০২৫ সালে ইস্পাত ব্যবহার দশমিক ৭ থেকে ৩ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।’

এদিকে ২০২৪ সালে চীনের ইস্পাত রফতানি ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এ সময় দেশটির মোট রফতানির পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টন।

দেশটির রফতানি বৃদ্ধি বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়িয়েছে। জাপান ও ভারতসহ অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সস্তা চীনা ইস্পাতজাত পণ্যের কারণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি হচ্ছে।

আরও